বাংলাদেশ রিফর্ম ট্র্যাকার হলো একটি স্বতন্ত্র, নাগরিক-নেতৃত্বাধীন প্ল্যাটফর্ম, যা দেশের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে গৃহীত সংস্কার প্রতিশ্রুতিগুলোকে অনুসরণ, পর্যবেক্ষণ এবং অগ্রগতির তথ্য প্রকাশ করে। এটি সংস্কার সম্পর্কিত তথ্য এক জায়গায় উপস্থাপন করে, যার ফলে নাগরিকরা সহজে এবং পরিষ্কারভাবে সংস্কারের হালনাগাদ তথ্য জানতে পারেন।
কেন এই ট্র্যাকার?
সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে এবং এখনো দেওয়া হচ্ছে, প্রায়শই এগুলোর অগ্রগতি জানানো হয় কিংবা সম্পন্ন হওয়ার দাবি করা হয়। তবে, সংস্কারের বাস্তব অগ্রগতি সম্পর্কিত তথ্যসমূহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি গেজেট, সংবাদ সম্মেলন ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে বিচ্ছিন্নভাবে উপস্থাপিত হওয়ায় নাগরিকদের জন্য সংস্কার সম্পর্কিত উন্নয়নসমূহ সম্পর্কে জানা এবং সময়ের সঙ্গে এগুলোর বাস্তবায়ন মূল্যায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ে। বাংলাদেশ রিফর্ম ট্র্যাকার এই সমস্যা সমাধানের জন্যই তৈরি করা হয়েছে। এতে সংস্কারের অগ্রগতি স্পষ্ট ও সহজভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যার মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়, জবাবদিহিতা শক্তিশালী হয় এবং বাংলাদেশের সংস্কার-যাত্রা নিয়ে জনগণকে সু-তথ্যভিত্তিক আলোচনার সুযোগ দেওয়া হয়।
আমরা এটি কিভাবে করেছি?
সনাক্তকরণ
চূড়ান্ত সংস্কার বাস্তবায়ন লক্ষ্যের সাথে সম্পর্কিত সমস্ত উপাদান ও উপাদানসমূহ সনাক্ত করা।
বিশেষজ্ঞ যাচাইকরণ
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ এবং অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য ও বিশ্লেষণ যাচাই করা।
অগ্রগতি ট্র্যাকিং
সংস্কার প্রস্তাবসমূহের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে হালনাগাদ করা হয় সরকারি নথিপত্র—যেমন প্রজ্ঞাপন, বিজ্ঞপ্তি, অধ্যাদেশ—এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা, বিশেষজ্ঞ ও প্রধান অংশীজনদের সঙ্গে কী ইনফরম্যান্ট ইন্টারভিউ (KII) এর মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে।
ট্র্যাকার ডেটাবেস উন্নয়ন
এই হালনাগাদ তথ্যসমূহ একটি পাঁচ-ধাপের কাঠামোর আওতায় সংযোজন করা হবে:
ডাটাবেস উন্নয়ন
ট্র্যাকিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত সকল তথ্য ও উপাত্ত একটি মানসম্মত ডেটাবেসে সংরক্ষণ করা হয়, যার ওপর ভিত্তি করেই এই রিফর্ম ট্র্যাকার পরিচালিত হয়। সকল সংস্কার খাতে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে প্রতিটি সংস্কার প্রস্তাব একই ট্র্যাকিং প্রক্রিয়া ও কাঠামোর আওতায় নথিভুক্ত করা হয়। এই ডেটাবেস নিয়মিতভাবে, অথবা নতুন প্রমাণ বা তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে হালনাগাদ করা হয়, যাতে ব্যবহারকারীরা সংস্কারসমূহের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে তথ্য পেতে পারেন।
ট্র্যাকারের পিছনে যারা
এই উদ্যোগের সামগ্রিক নেতৃত্ব প্রদান করেছিলেন ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, সম্মাননীয় ফেলো, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি), এবং অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, সম্মাননীয় ফেলো, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
এই উদ্যোগের মূল দলে ছিলেনঃ তৌফিকুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা), সিপিডি; নাজিবা মোহাম্মদ আলতাফ, জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী, সিপিডি; শৌর্য তালুকদার, জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী; খাজা মাসাম ফাহিম, প্রোগ্রাম সহযোগী, সিপিডি; এবং জুবায়ের জহির চৌধুরী, প্রোগ্রাম সহযোগী।
গণমাধ্যম সংস্কার প্রস্তাবগুলোর ট্র্যাকিং মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই)-এর সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে, যার নেতৃত্ব দান করেছেন জনাব হাসিবুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক, এমআরডিআই।
এই কার্যক্রমে বিশেষজ্ঞ হিসেবে আরও যুক্ত ছিলেন প্রফেসর নুরুল হুদা সাকিব, জনাব মো. অভি হোসাইন, এবং জনাব আসিনুর রেজা।
বিশেষ ধন্যবাদ জনাব অভ্র ভট্টাচার্য, অতিরিক্ত পরিচালক, (সংলাপ, যোগাযোগ ও আউটরিচ), সিপিডি; তারন্নুম জিনান, নেটওয়ার্ক ফোকাল পয়েন্ট, এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্লাটফর্ম, বাংলাদেশ; এবং রিফাত বিন আওলাদ, সংলাপ সহযোগী, সিপিডি-কে, যাদের সহযোগিতা ছাড়া এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো না।
অংশীজন পরামর্শ
এই ট্র্যাকিং কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহের জন্য মোট ১৭৩ জন অংশীজনের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়।
ওয়েবসাইট তৈরি
রিফর্ম ট্র্যাকার ওয়েবসাইটটি পেশাদার চুক্তির আওতায় তৈরি করা হয়।
এই ওয়েবসাইটের বিষয়বস্তু সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত তথ্য এবং বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। রিফর্ম ট্র্যাকার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত মতামতগুলো কোনও ব্যক্তিগত বা প্রতিষ্ঠানগত দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করে না।