ক. গণমাধ্যমের সব পর্যায়ে সব জেন্ডারের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য নিয়োগ, পদায়ন ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে জেন্ডার বৈষম্য দূর করা; খ. প্রতিটি গণমাধ্যমে জেন্ডার সংবেদনশীল আচরণবিধি প্রস্তুত করতে হবে এবং আচরণবিধি কার্যকরভাবে পালনের জন্য তথ্যদান, আলোচনা, প্রশিক্ষণ ও মনিটরিং-এর ব্যবস্থা রাখা; সব জেন্ডারের সাবলীল অংশগ্রহণের জন্য অবকাঠামো (যেমন: ভিন্ন টয়লেট, শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র) ইত্যাদি নিশ্চিত করতে হবে; গ. নারীর প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে জেন্ডার নির্বিশেষে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতার ব্যবস্থা; নিরাপদে যাতায়াতের জন্য পরিবহনব্যবস্থা রাখা; ঘ. হাইকোর্ট প্রণীত যৌন নিপীড়ন রোধ নির্দেশ (২০০৯) অনুযায়ী প্রতিটি গণমাধ্যম কার্যালয়ে একটি অভিযোগ প্রতিকার সেল তৈরি করা; ঙ. সাংবাদিকতায় নানা ধরনের চাপ মোকাবিলায় মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া; চ. নারী যেন যথাযথভাবে মাতৃত্বকালীন ছুটি পায় এবং ছুটি শেষে কাজে ফিরে কোনো বৈষম্যের মুখোমুখি না হয়, তা নিশ্চিত করা; ছ. নারীকে কীভাবে উপস্থাপনা করা হবে, তার জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশনা এবং নিয়মাবলি রচনা করা; নারীর প্রতি ঘৃণা, বিদ্বেষ বা বিরূপ মনোভাব তৈরি করে, কিংবা সব ক্ষেত্রে তার সাবলীল পদচারণায় বাধা সৃষ্টি করে এমন গৎবাঁধা ধারণা প্রকাশ ও প্রচার না করার বিষয়ে নীতিমালা প্রস্তুত করা; জ. সমাজে নারীর বহুমুখী ভুমিকা ও অংশগ্রহণ তুলে ধরা; কোনো একটি সংবাদ/ফিচারের ক্ষেত্রে নারীর কণ্ঠস্বর ও দৃষ্টিভঙ্গি ফুটে উঠেছে কি না, তা খেয়াল রাখা; ঝ. ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট নির্দেশিকা প্রস্তুত করা, যাতে শব্দ বা বর্ণনার মাধ্যমে নারীর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অবমাননা না হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য অনলাইন মাধ্যমের আবির্ভাব ও জনপ্রিয়তার কারণে বিজ্ঞাপনদাতারা যখন ক্রমেই কথিত নিউ মিডিয়ামুখী হচ্ছে, বাংলাদেশে তখনো প্রথাগত গণমাধ্যম বা লিগ্যাসি মিডিয়ার প্রসারণ চলমান। ফলে বিজ্ঞাপন পাওয়ার প্রতিযোগিতা এক অসুস্থ পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। দাম কমানোর প্রতিযোগিতায় স্বাভাবিকভাবেই বিজ্ঞাপনদাতারা লাভবান হচ্ছেন। আবার এই সংকটে বিজ্ঞাপন এজেন্সিগুলোর মধ্যেও প্রতিযোগিতায় যোগসাজশের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিযোগিতায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা থাকছে না। কমিশন অংশীজনদের মতামতের আলোকে মনে করে: ক. অচিরেই বিজ্ঞাপনের মান ও প্রতিযোগিতায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার জন্য একটি তদারকি প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞাপন মান কর্তৃপক্ষ (অ্যাডভার্টাইজিং স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি) প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। খ. এই প্রতিষ্ঠান হবে একটি স্বায়ত্তশাসিত ও বিধিবদ্ধ সংস্থা। গ. এই প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক রীতিনীতি ও বিভিন্ন আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিজ্ঞাপন নীতিমালা তৈরি করবে, যা বিজ্ঞাপনদাতা, এজেন্সিসমূহ এবং বিজ্ঞাপন প্রকাশ ও প্রচারের মাধ্যমগুলোর জন্য অবশ্যপালনীয় হবে। ঘ. পিআর এজেন্সি ও মিডিয়া বায়িংয়ের মতো বিষয়গুলোয়ও স্বচ্ছ নীতিমালা ও আচরণবিধি প্রণয়ন এবং তা প্রতিপালন নিশ্চিত করবে এ কর্তৃপক্ষ। ঙ. টেলিভিশনের রেটিং-ব্যবস্থা টিআরপি নির্ধারণ এবং সংবাদপত্রের প্রচারসংখ্যা যাচাইয়ের পরিদর্শনব্যবস্থায় বিজ্ঞাপন এজেন্সিগুলোর সংগঠন, অ্যাডভার্টাইজিং এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। কমিশন এ সম্পর্কে আলাদা সুপারিশ করেছে। চ. বিজ্ঞাপনশিল্পে কোনো ধরনের যোগসাজশ এবং সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার পরিপন্থি কৌশল চর্চা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও তদন্ত অনুষ্ঠান সমীচীন হবে। প্রতিযোগিতা কমিশন এ বিষয়ে উদ্যোগী হতে পারে।

কমিশন মনে করে স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসাবে টিকিয়ে রাখার চেয়ে বাসসকে বিটিভি ও বেতারের নতুন সম্মিলিত প্রতিষ্ঠানের বার্তা বিভাগ হিসাবে একীভ‚ত করাই হবে রাষ্ট্রীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার। এই কেন্দ্রীয় বার্তা কক্ষের তৈরি খবর বিটিভি ও বাংলাদেশ বেতারে প্রচারিত হবে। বিটিভি, বেতার ও বাসসের সমন্বয়ে নতুন প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ সম্প্রচার সংস্থা বা জাতীয় সম্প্রচার সংস্থা নামকরণ করা যেতে পারে। এই নতুন প্রতিষ্ঠানের তিনটি বিভাগ থাকবে টেলিভিশন, বেতার ও বার্তা বিভাগ। নতুন সম্প্রচার সংস্থায় বার্তা বিভাগ তার বর্তমান গ্রাহকদের প্রদত্ত সেবা অব্যাহত রাখবে। প্রতিটি বিভাগের প্রধান হিসাবে একজন করে পরিচালক থাকবেন এবং নতুন একীভ‚ত সম্প্রচার সংস্থার প্রধান হবেন একজন মহাপরিচালক।

আপডেট থাকুন

শব্দকোষ

Last Updated: 14th December 2025

Loading glossary...