বছর
2026
রিফর্ম ডোমেইন
সংস্কার প্রস্তাবের উৎস
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬
বাস্তবায়নের অগ্রগতির ধাপ
প্রস্তাবিত সংস্কার
Last Update: 02-May-26
এই প্রতিশ্রুতিটি বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারে বিএনপি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, "শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত 'স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন কর্মসূচি' পুনঃবাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশপ্রেমী জনগণের স্বেচ্ছাশ্রম ও সক্রিয় অংশগ্রহণের ভিত্তিতে ২০,০০০ কিলোমিটার নদী ও খাল খনন, পুনঃখনন ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে হারিয়া যাওয়া ৫২০ টি নদী, হাজার হাজার খাল এবং তাদের প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহ পুনরুদ্ধার ও সেচ ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি করা হবে।“
প্রাথমিক বাস্তবায়ন শুরু
Last Update: 02-May-26
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে, সরকার দেশব্যাপী নদী, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য একটি সমন্বয় সেল গঠনের বিষয়ে একটি গেজেট প্রজ্ঞাপন জারি করে, যেখানে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়কে সচিবালয় সহায়তা প্রদানের জন্য মনোনীত করা হয়।
আইনি ও নীতিগত কাঠামো প্রণয়ন
Last Update: 02-May-26
কেন্দ্রীয় সমন্বয় সেলকে বছরভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, বিভিন্ন সংস্থার বিদ্যমান ও বাস্তবায়নযোগ্য কার্যক্রমের সমন্বয়, বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ এবং দিকনির্দেশনা প্রদান করার দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে, যেখানে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে; কর্মসূচিটি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো), বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি), স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে পৃথক প্রকল্প কাঠামোর অধীনে বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত। তবে এখন পর্যন্ত কোনো কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি, যদিও বিদ্যমান প্রকল্প ও পরিকল্পনাসমূহ দৃশ্যত এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক কার্যকরকরণ
Last Update: 02-May-26
২ মার্চ ২০২৬ তারিখে, সংবাদসূত্রে জানানো হয় যে সরকার সারা দেশে খাল শনাক্তকরণ ও মানচিত্রভুক্ত করার লক্ষ্যে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প গ্রহণ করেছে। প্রকল্পটির আনুমানিক ব্যয় ৩১.৫৭ কোটি টাকা এবং এটি পরিকল্পনা কমিশনের সহায়তায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বাস্তবায়ন করছে; প্রকল্পটি জুন ২০২৯-এর মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় ৩০,০০০ খাল শনাক্ত ও শ্রেণিবিন্যাস করে একটি জিআইএসভিত্তিক জাতীয় ডেটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
১৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রী দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া খালে দেশব্যাপী খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন, যার মাধ্যমে ৫৪টি জেলায় বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়। কর্মসূচির রোলআউট পরিকল্পনায় প্রথম ধাপে ৫৪টি জেলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, প্রথম ১৮০ দিনের মধ্যে ১,০০০ কিলোমিটারের বেশি খাল খনন দৃশ্যমান করার স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং পাঁচ বছরে মোট ২০,০০০ কিলোমিটার নদী, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখননের সামগ্রিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই রোলআউট অব্যাহত আছে, যার মধ্যে ২৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে যশোরের শার্শায় উলসী খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে; প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে পুনঃখনন করা হচ্ছে।
করমসুচিটি উদ্বোধনের পর বিভিন্ন জেলায় বাস্তবায়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বিএডিসির মনিটরিং বিভাগের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভার কার্যপত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) ২০২৫–২৬ অর্থবছরের খাল খনন ও সেচ-সংক্রান্ত লক্ষ্যমাত্রার ৪২.৭৭ শতাংশ অর্জন করেছে। ২৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে বিভিন্ন অঞ্চলে খাল খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রম চলমান রয়েছে, যেখানে অগ্রগতির মাত্রা ভিন্ন ভিন্ন।
১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে পানি সম্পদ মন্ত্রী সংসদে জানান যে জুন ২০২৬-এর মধ্যে ১,২০৪ কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে, পাশাপাশি ত্রাণভিত্তিক কর্মসূচির আওতায় আরও প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে।
মতামত
-
সরকারি ওয়েবসাইটে উপলব্ধ তথ্য পানি সম্পদ মন্ত্রীর প্রদত্ত খাল খনন ও পুনঃখনন অগ্রগতির পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করার জন্য একটি সুস্পষ্ট ভিত্তি প্রদান করে না। প্রাপ্ত প্রকল্পভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) ২০২৫–২৬ অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার ৪২.৭৭ শতাংশ অর্জন করেছে, তবে অন্যান্য বাস্তবায়নকারী সংস্থার জন্য এ ধরনের সমন্বিত অগ্রগতির তথ্য পাওয়া যায় নিই। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি )সহ বিভিন্ন সংস্থা দেশব্যাপী খাল খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রম পরিচালনা করলেও তাদের অগ্রগতির তথ্য বিভিন্ন সরকারি ওয়েবসাইট ও নথিপত্রে বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে রয়েছে, যার অনেকগুলোই জনসাধারণের জন্য সহজলভ্য নয়, ফলে সামগ্রিক বাস্তবায়ন পরিস্থিতির একটি পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করা সীমিত হয়ে পড়ে।
চলমান খাল খনন প্রকল্পসমূহ সম্পর্কিত তথ্য বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)-এর সরকারি নথি এবং সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংগৃহীত। বিএডিসির মনিটরিং বিভাগের ২০২৫–২৬ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প ও কার্যক্রমসমূহের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভার কার্যপত্র অনুযায়ী, বিএডিসির অধীনে একাধিক খাল খনন ও সেচ-সংক্রান্ত প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। ক্ষুদ্রধারী কৃষি প্রতিযোগিতা উন্নয়ন প্রকল্প (জুলাই ২০১৮–জুন ২০২৬) প্রকল্পের মোট বরাদ্দ ৩৮৪.২১ কোটি টাকা এবং লক্ষ্যমাত্রা ৬৬৪ কিলোমিটার খাল খনন।
বাংলাদেশের সেচ পানি ব্যবস্থাপনা ও ওয়েবভিত্তিক তথ্য ব্যবস্থা উন্নয়ন বিষয়ক পাইলট গবেষণা প্রকল্প (জুলাই ২০২১–জুন ২০২৬) প্রকল্পের বাজেট ৭৩.২৪ কোটি টাকা এবং লক্ষ্যমাত্রা ১৫ কিলোমিটার। বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলার সেচ উন্নয়ন প্রকল্প (সেপ্টেম্বর ২০২৩–ডিসেম্বর ২০২৬) প্রকল্পের বাজেট ৩৮৪.৯১ কোটি টাকা এবং লক্ষ্যমাত্রা ৩৭৫ কিলোমিটার। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় ভূগর্ভস্থ পানির মাধ্যমে সেচ উন্নয়ন প্রকল্প (জুলাই ২০২৩–জুন ২০২৮) প্রকল্পের বাজেট ৬০২.২৬ কোটি টাকা এবং লক্ষ্যমাত্রা ৫২৫ কিলোমিটার; অপরদিকে সিলেট জেলায় ভূগর্ভস্থ পানির মাধ্যমে সেচ উন্নয়ন প্রকল্প (জুন ২০২৫–ডিসেম্বর ২০২৯) প্রকল্পের বাজেট ৪৯৯.৯৯ কোটি টাকা এবং লক্ষ্যমাত্রা ৩২৬ কিলোমিটার। খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার সেচ উন্নয়ন প্রকল্প (জুলাই ২০২৫–জুন ২০৩০) প্রকল্পের বাজেট ৪৯৯.৮২ কোটি টাকা এবং লক্ষ্যমাত্রা ৫০০ কিলোমিটার। এছাড়া বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বীজ বর্ধন খামার স্থাপন প্রকল্প (মার্চ ২০২২–সেপ্টেম্বর ২০২৬) প্রকল্পে খাল-সংক্রান্ত একটি উপাদান রয়েছে, যার লক্ষ্যমাত্রা ১২ কিলোমিটার এবং মোট বাজেট ৪৭৮.৩৬ কোটি টাকা।
তথ্যাবলী